শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

আপডেট
*** সিসি ক্যামেরা সিস্টেম নিতে যোগাযোগ করুন - 01312-556698  ***              সিসি ক্যামেরা সিস্টেম নিতে যোগাযোগ করুন - 01312-556698 ***                     *** সিসি ক্যামেরা সিস্টেম নিতে যোগাযোগ করুন - 01312-556698  ***              সিসি ক্যামেরা সিস্টেম নিতে যোগাযোগ করুন - 01312-556698 ***
সংবাদ শিরোনাম :
বাসার দরজার তালা ভেঙ্গে কয়েক লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট, থানায় অভিযোগ দায়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে গ্যাস সিলিন্ডার রিফিল করা হচ্ছে বেনাপোল বন্দরে গেটপাশ কারসাজিতে পচনশীল পণ্য শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ সোনাইমুড়ীতে যৌতুকের মামলায় স্বামী শ্রীঘরে রাত ৮টার পর শপিং মল-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের আহ্বান বিদ্যুৎ বিভাগের দাবদাহের মধ্যে ঢাকার বায়ু আজ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিটস্ট্রোকে নোয়াখালী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু অবসর ভেঙে বিশ্বকাপে ফিরতে চান না নারাইন এ মৌসুমে আর মাঠে নামা হচ্ছেনা বার্সেলোনার ডি জংয়ের ইবিতে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি, শাস্তির সুপারিশ

বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড ইনচার্জ ও টেন্ডেলের দৌরাত্বে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড ইনচার্জ ও টেন্ডেলের দৌরাত্বে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

সুমন হোসাইনঃ

দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মরত শেড ইনচার্জ ও (বহিরাগত) টেন্ডেলের দৌরাত্বে চলছে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির মহাউৎসব। কৌশলে স্থলবন্দরে বিভিন্ন শেডে আমদানীকৃত বৈধ পণ্যের পাশাপাশি অবৈধ পণ্য প্রবেশ করিয়ে অসাধু শেড ইনচার্জরা বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। এক এক জন শেড ইনচার্জরা নামে বেনামে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিক। আবার অনেক কর্মকর্তা অবৈধ এসব টাকা জমা রাখছেন বিশ্বস্ত আত্মীয় স্বজনের ব্যাংক একাউন্টে।

স্থানীয় বিভিন্ন সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে থেকে জানা যায়, ভারত হতে শুল্ক ফাঁকি দিতে বৈধ পণ্যর সাথে আমদানি নিষিদ্ধ বিভিন্ন পন্য প্রবেশ করানো হয় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এসব পণ্যর মধ্যে রয়েছে ঔষধ,মোবাইল ও অ্যাসোর্টেড পন্য সহ শর্ত সাপেক্ষে আমদানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্য। বেশি প্যাকেজ এবং অবৈধ এসব পণ্যর গায়ে বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন দেওয়া থাকে। সুবিধামত এসব কার্টুন ও অবৈধ পন্য গুলো শেড ইনচার্জরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শেডে বা গাড়িতে থাকা প্রবেশকৃত অবৈধ পণ্য কৌশলে রাতের আধারে স্থলবন্দরে বাইরে বের করে দেই। আবার কখনো আনলোডের সময়ও অবৈধ এসব পণ্য কৌশলে বের করে নিয়ে যায় আমদানি কারকের প্রতিনিধি। এসময় অসাধু ব্যবসায়ীরা সতকর্তা অবলম্বনে কাস্টম হাউসের (আইআরএম টিম,শুল্ক গোয়েন্দা টিমকে) নজরদ্বারী রাখতে তাদের নিজেস্ব লোক দিয়ে কাস্টমস গেটে লোক বসিয়ে রাখে। কেননা অনেক সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান দিয়ে এসব অবৈধ পণ্য আটক করে থাকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নিয়ম বর্হিভূত বন্দরের প্রতিটি শেডে ট্যান্ডেল নামে বহিরাগত একজন করে চোর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা সরাসরি রাজস্ব ফাঁকি ও শেড থেকে মালামাল চুরির সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো। বন্দরে মোট ৪২টি শেড রয়েছে, যার প্রতিটি শেডে বহিরাগত ট্যান্ডেল খ্যাত ১/২ জন চোর কর্মরত আছে। এ বিষয়ে দীর্ঘবছর ধরে বন্দর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পায়নি বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো।

সরজমিনে বেনাপোল স্থলবন্দর ঘুরে দেখা য়ায়, ০১ নং শেড টেন্ডেল-সোহাগ, ০৯ নং শেড টেন্ডেল-কালু, ১০ নং শেড টেন্ডেল -সাইফুল, ১৩ নং শেড টেন্ডেল- আমিনুর, ২২ নং শেড টেন্ডেল-আজগর, ২৭ নং শেড টেন্ডেল-সহিদ, ২৮ নং শেড টেন্ডেল বিল্লাল, ২৯ নং শেড টেন্ডেল-রব, ৩০ নং শেড টেন্ডেল-শাহাদত ,৩৬ নং শেড টেন্ডেল-ফারুখ, ৪০ নং শেড টেন্ডেল-নাসির, ৪২ নং শেড টেন্ডেল- মহাসিন। এছাড়াও এক বা একাধিক টেন্ডেলরা স্থলবন্দরে কর্মরত রয়েছে। অনুসন্ধানে মিলেছে শেডে কাজ করার সুবাধে ইনচার্জদের বদৌলতে এসব টেন্ডেলরা নামে বেনামে বনে গেছে অঘাত সম্পাদের মালিক।

এ বিষয়ে স্থলবন্দরের ২৭নং শেড ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হাফিজকে শুল্কফাঁকি এবং ট্যান্ডেলের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান আমার শালার মৃত্যুর জন্য ছুটিতে আছি এছাড়া তিনি আর কোন সদ উত্তর দিতে পারেননি। এছাড়াও ৩০নং শেড ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলামের কাছে শুল্কফাঁকি এবং ট্যান্ডেলের বিষয়ে জানতে ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্মকর্তা জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরে ৪২টি শেড রয়েছে আর এসব শেডের মধ্যে ১৭,২৭,২৮,২৯,৩০,৩৬,৪০, ৪২ নং শেড গুলোতে অধিক ডিউটিযুক্ত পন্য নামানো হয়। এসব শেডগুলোর ইনচার্জ ও অসাধু সিএন্ডএফ এজেন্টের কর্মচারির যোগসাজশে পরিকল্পিত ভাবে ভারত হতে আমদানি বৈধ পণ্যের সাথে অবৈধ পণ্যে,ইনভয়েস ও প্যাকিং লিষ্টের থেকে বেশি প্যাকেজ পন্য শেডের বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়। কাস্টমসের চোঁখ ফাঁকি দিতে শুল্ক যোগ্য বৈধ পণ্যে গুলো সামনে রাখা হয় আর অবৈধ পণ্যে গুলো শেডের বিভিন্ন কোনায় বা লুকায়িত ভাবে অন্য পণ্যের পাশে রাখে। এছাড়াও মূল পণ্যর পাশাপাশি ইনভয়েস ও প্যাকিং লিষ্ট অনুযায়ি বেশি প্যাকেজ পণ্য থাকলে সেটা গননার সময় শেড ইনচার্জদের মাধ্যমে অন্য কোন পাশে পন্য রেখে পরীক্ষন ও শুল্কায়ন শেষে সেগুলো অনায়াসে বন্দর থেবে বের হয়ে চলে যায়। আবার কখনো নরমাল শুল্ক যোগ্য ফেব্রিকস,ইলেকট্রিক্যাল দ্রব্য পন্য আমদানির ঘোষনা দিয়ে ইলেকট্রিক্যাল ও ফেব্রিকস পন্যর বদলে শাড়ি,থ্রী পিস ও কসমেটিক্স আমদানির মধ্যে দিয়ে বড় ধরনের শুল্ক চুরির ঘটনা ঘটছে। আবার কখনও এক পণ্য আমদানি করে অন্য পণ্যর H.S COAD দেখিয়ে ও পণ্যের ওজন কম দেখানো সহ প্যাকিং লিস্ট বা ইনভয়েস জালিয়াতির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করে নিচ্ছে। স্থানীয় ক্লিন ইমেজের একটি সিএন্ডএফ কর্মকর্তা জানিয়েছেন পণ্য আনলোড এবং লোড পর্যায়ে সরাসরি গোয়েন্দা কোন বাহিনীর সম্পৃক্ততা থাকলে শুল্কফাঁকি রোধ হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোলে গত দুই বছরে কেবল কসমেটিকস আমদানিতে আমদানিকারক ও অসাধু সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যোগসাজশে প্রায় শতকোটি টাকার শুল্ককর ফাঁকি দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), কাস্টমস গোয়েন্দাসহ বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে জালিয়াতি করা বিল অব এন্ট্রিসহ জালিয়াতির প্রমাণাদি দেয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে আমদানি কারককে সুবিধা দিতে প্রথমে অসাধু সিএন্ডএফ এজেন্টের কর্মরত বর্ডারম্যান পণ্যবাহি ট্রাক রিসিভ করে বন্দেরের নিদৃষ্ট শেডে কসমেটিকস পণ্যগুলো রাখে। এসব পণ্যের সাথে কসমেটিকস পণ্য লুকিয়ে রাখা হয় পণ্যগুলো ডেলিভারির সময় কসমেটিক্সের কার্টুনগুলো ডেলিভারি করে নিচ্ছে আমদানি কারকের প্রতিনিধিরা। আর এই কাজে অর্থের বিনিময়ে সরাসরি লিপ্ত শেড ইনচার্জ ও শেডের বহিরাগত টেন্ডেলরা। এছাড়াও বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সরকার গেল ৮ বছর ধরে এবন্দর থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে উপ-পরিচালক মোঃ মুনিরুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করলে তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


Search News




©2020 Daily matrichaya. All rights reserved.
Design BY PopularHostBD