মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

আপডেট
*** সিসি ক্যামেরা সিস্টেম নিতে যোগাযোগ করুন - 01312-556698  ***              সিসি ক্যামেরা সিস্টেম নিতে যোগাযোগ করুন - 01312-556698 ***                     *** সিসি ক্যামেরা সিস্টেম নিতে যোগাযোগ করুন - 01312-556698  ***              সিসি ক্যামেরা সিস্টেম নিতে যোগাযোগ করুন - 01312-556698 ***

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভোক্তাবান্ধব নীতি চাই

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভোক্তাবান্ধব নীতি চাই

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে এখনও প্রায় মাসখানেক বাকি থাকলেও ইতিমধ্যেই সারা দেশে রমজানে ব্যবহার্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যসন্ত্রাসী অসাধু ব্যবসায়ীসিন্ডিকেট এখন আর রমজানের অপেক্ষায় থাকছে না। রমজান শুরুর দুই মাস আগেই পরিকল্পিতভাবে রমজাননির্ভর নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে রমজানে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে এমন অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে বাজারে প্রচলিত জেলা প্রশাসন, ডিএমপি, ্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের বাজার অভিযান পরিচালিত হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। উল্টো বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের মূল্য। সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, সব ধরনের সবজির দাম এখন আকাশছোঁয়া। কিছু সবজির কেজি ছুঁয়েছে ১০০ টাকা। বাকিগুলোর বেশিরভাগের কেজি ৭০৮০ টাকা। গত দুমাসে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দুই মাস আগে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১২০১৩০ টাকা, তা বিক্রি হয়েছে ১৬৫১৭৫ টাকায়

বেড়েছে অন্যান্য মুরগির দামও। গত এক মাসে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭২০৮০০ টাকায়। সব ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বেড়েছে খোলা বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও। দুই মাস ধরে ধারা অব্যাহত থাকলেও গত দুই সপ্তাহে বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। মূল্যবৃদ্ধির জন্য পাইকাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের এবং খুচরা বিক্রেতারা পাইকারদের দায়ী করছেন। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ী নির্ভরতা এবং আসন্ন রমজান মাস সামনে রেখে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মজুতদারি বৃদ্ধির কারণেই বেশিরভাগ পণ্যের দাম বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত

বলার অপেক্ষা রাখে না, মূল্যসন্ত্রাসী, মুনাফাখোর, মজুতদারী সিন্ডিকেট অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নকলভেজাল মানহীন পণ্যের দৌরাত্ম্যের কারণে আজ নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ; মানুষের স্বাভাবিক জীবনজীবিকার অধিকার এখান মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। একশ্রেণীর নীতিআদর্শহীন, অতি মুনাফালোভী, অসাধু ব্যবসায়ীদের অল্পদিনে কোটিপতি হওয়ার বাসনায় ইচ্ছামতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় অচল করে দিয়েছে; যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য জীবনজীবিকা নির্বাহ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে

ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দাম বাড়ালেও ওই পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য কমলেও তারা আর কমায় না। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে গুটিকয়েক অসৎ ব্যবসায়ীর স্বার্থ সংরক্ষণে যাবতীয় রীতিনীতি প্রণয়ন করার কারণে সাধারণ জনগণের স্বার্থ বারবার উপেক্ষিত হয়। ফলে ব্যসায়ীরা পণ্যের দাম ইচ্ছামতো বাড়ায়, কমায়, সরবরাহসহ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে জনগণকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা নিজেদের পকেটস্থ করেন। কারণে রিকশা, সিএনজি, বাড়ি ভাড়া, বাস ভাড়া থেকে আরম্ভ করে নগরীর সেলুন, ফটোস্ট্যাট, বিস্কুট, পাউরুটি, কাঁচাবাজার, ফলমূলের ব্যবসায়ী, ফার্মেসিসহ সবাই তাদের ইচ্ছামতো পণ্য সেবার মূল্য নির্ধারণ করছে; সেখানে সরকারি কোনো সমন্বয় তো দূরের কথা, সরকারের সংশ্লিষ্ট লোকজন এসব খবরই রাখছে না। উপরন্তু পবিত্র রমজান মাস এলে তাদের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়া, সরকারের ভর্তুকি লাভের আশায় কর ফাঁকির কুমতলবে এসব ব্যবসায়ী সুদৃশ্য মোড়কে ন্যায্যমূল্যের দোকান খুলে সাধারণ জনগণের সঙ্গে ছলচাতুরী করছে

কিন্তু পাইকারি খুচরা বাজারের মধ্যে সমন্বয় থাকলে, মজুতদারি একচেটিয়া আমদানির দৌরাত্ম্য কমাতে পারলে দ্রব্যমূল্য অনেকাংশে কমান যেত। পবিত্র রজমান, ঈদ পূজাকে সামনে রেখে একশ্রেণীর মজুতদারি, সিন্ডিকেট চক্র প্রশাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের নাকের ডগায় তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, গম, মসলা সয়াবিন সংকট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চক্রটি চাল সংকট সৃষ্টি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এসব মজুতদারি, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকারীদের সঙ্গে প্রশাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু লোকের অবৈধ আঁতাতের কারণে জনগণের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে

লক্ষণীয়, নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিংসহ বাজারদর সহনশীল রাখতে সরকারকে যেসব উদ্যোগ নিতে দেখা যায়, তার সবকটিই ব্যবসায়ীনির্ভর। গত সপ্তাহে বাণিজ্যমন্ত্রী পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ সভা করলেন। সভায় যারা আমন্ত্রিত হলেন, তারা সবাই ব্যবসায়ী কয়েকজন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তা। স্বাভাবিক কারণে ব্যবসায়ীদের স্বার্থহানি হয়, ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেবেন না। সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য সামগ্রীর সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, সেবা সার্ভিসসহ সব খাতে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বাজার মনিটরিং, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বিস্তার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার মনিটরিংসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সরকারি কর্তাদের ম্যানেজ করার সংস্কৃতি চলমান রয়েছে

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে টিসিবিকে অকার্যকর করতে ব্যবসায়ীদের নানামুখী চাপ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও খোলাবাজারে চাল বিক্রি, ওএমএস, ফেয়ার প্রাইস ইত্যাদি অকার্যকর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেই ব্যাংকের সুদ বেশি, পরিবহন খরচ, ডলারের দাম বেশি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি নানা অজুহাত তুলে জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। আবার ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোকে সরকার বহুজাতিক সংস্থাগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির অনেক উদ্যোগ নিলেও ভোক্তাদের মাঝে সচেতনতা তৈরি তাদের সংগঠনগুলোর প্রতি অবহেলার কারণে ব্যবসায়ী ভোক্তাদের মধ্যে বৈষম্য ব্যবধান বেশি হওয়ার কারণে দেশে ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ সংস্কৃতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে

তাই বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবর্তে অসুস্থ পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং কিছু মধ্যস্বত্বভোগী, আগাছা মৌসুমি ব্যবসায়ীর আবির্ভাব ঘটছে। আর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ভোক্তাদের সংগঠনগুলোর ব্যবধান এত বেশি হয়ে গেছে এবং তাদের সক্ষমতা এত বেশি যে, ফলে তাদের হাতে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সরকারি প্রশাসনযন্ত্রও অসহায় হয়ে পড়ে। সে কারণে পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখার জন্য সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সব মহল ব্যবসায়ীদের বারবার অনুরোধ করার পরও তাদের সেই প্রতিশ্রুতি কোনো কাজেই আসে না

কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর কারসাজিতে পুরো দেশ বর্তমানে অন্য দেশের বাজারে পরিণত হয়েছে। পাউরুটি, বিস্কুট, পরাটা থেকে শুরু করে আমদানি করা হয় না এমন পণ্যের তালিকা সম্ভবত দেশে নেই। মাছও এখন আমদানির তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। সরকারের কিছু কর্তা তাদের নিজেদের আখের গোছাতে আমদানিকৃত পণ্যে শুল্ক হ্রাস ভর্তুকি প্রথা চালু করে দেশীয় উৎপাদক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় পথে বসিয়েছে। তাই এখন প্রয়োজন অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরশীলতা হ্রাস করে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। এতে দেশের সমৃদ্ধি জাতি উপকৃত হবে

ব্যবসাবাণিজ্যের সহায়ক পরিবেশ তৈরি, দেশে ন্যায্য ব্যবসা প্রসার ব্যবসাবাণিজ্যে সুস্থ ধারা প্রবর্তনের স্বার্থে ব্যবসায়ী সংগঠন, বিশেষ করে ফেডারেশন অব চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন চেম্বারে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তাদের সদস্য সংগঠনগুলোর দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি অনুদান ছাড়াও সরকার জিএসপি সুবিধা, কর রেয়াত, বিভিন্ন প্রণোদনা, trade for aid, ভর্র্তুকিসহ নানা ধরনের নগদ সহায়তা প্রদান করে থাকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিগত অর্থবছরে এফবিসিসিআই অন্যান্য চেম্বারগুলোকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বহুজাতিক আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো থেকে বিশেষ অনুদান কারিগরি সহায়তা প্রদানও করা হয়ে থাকে

অন্যদিকে বাংলাদেশে ভোক্তা আন্দোলন শুধু স্থানীয় জনগণের দান, অনুদান, মুষ্টিমেয় বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। এটি অনেকটা এখনও স্থানীয় জনগণের চাহিদার কারণে চ্যারিটি আকারে জনকল্যাণে পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের জানামতে, ভোক্তা সংগঠনগুলো সমগ্র জেলা উপজেলা, মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে, পৌরসভাগুলোয় শাখা কমিটি গঠন করে ভোক্তাদের সংগঠিত ভোক্তাদের সচেতনতা বিস্তারে কাজ করছে। এজন্য সদস্য/সদস্যাদের চাঁদা, স্থানীয় জনগণের অনুদান, সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রম নিয়েই যাবতীয় কর্মযজ্ঞগুলো সম্পন্ন করতে হয়। আর্থিক সংকট, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, লজিস্টিক অন্যান্য সুবিধাদির অভাবে ভোক্তা সংগঠনগুলো জনগণের বিপুল চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি সক্ষম হয়ে উঠতে পারছে না। ফলে বাংলাদেশে ব্যবসায়ী সংগঠন ভোক্তা সংগঠনগুলোর মাঝে দক্ষতা অভিজ্ঞতা, কারিগরি সক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ে বিশাল আকারের পার্থক্য রয়ে গেছে; যেটি বাংলাদেশ ব্যবসাবাণিজ্যে সুস্থ ধারার বিকাশে বড় প্রতিবন্ধক

উন্নত বিশ্বে ভোক্তারা পণ্যের নিয়ামক হলেও বাংলাদেশে তার পরিস্থিতি উল্টো। এখানে খুচরা পাইকারি ব্যবসায়ীরাই পণ্যের মূল নিয়ামক। তারা যা বাজারজাত করবে, ভোক্তারা তাই হজম করতে বাধ্য। কারণ এখানে ভোক্তাদের পছন্দঅপছন্দের কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বব্যাংক বহুজাতিক দাতা সংস্থাগুলো যেভাবে বাংলাদেশে পাটশিল্প বন্ধ করতে অর্থ বিনিয়োগ করেছে, পক্ষান্তরে ভারতে পাটশিল্প বিকাশে অর্থ বিনিয়োগ করেছে; একইভাবে বহুজাতিক শক্তিগুলো ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করলেও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন তাদের সংগঠনের শক্তিশালী করার জন্য কোনো অর্থ বিনিয়োগ করছে না। ফলে প্রয়োজনীয় সচেতনতা শিক্ষার অভাবে বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্রেতাভোক্তা তাদের অধিকার, দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন নয়। অধিকন্তু অধিকাংশ ভোক্তা আসলনকল চিহ্নিত করে সঠিক পণ্য পছন্দ করার যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয়নি

সরকার বিভিন্ন জাতীয় আন্তর্জাতিক সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বাংলাদেশে ভোক্তা আন্দোলন গতি পায়নি। ফলে ভোক্তারা প্রতি পদে পদে ঠকছে। আর এজন্য ব্যবসায়ে সুস্থ ধারার বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে এখানে ফটকাবাজ, মৌসুমি ব্যবসায়ী, অসৎ ধান্ধাবাজ ব্যবসায়ীর আবির্ভাব ঘটেছে ব্যাপকহারে। স্বল্পদিনে কোটিপতি হওয়ার বাসনায় অনেক লোক অনৈতিক ব্যবসায়ে ঝুঁকছেন। তাদের সে অপবাসনার বলি হচ্ছে সাধারণ ভোক্তারা; যার পরিণতিতে পবিত্র রমজান, ঈদ পুজো পার্বণে বাজার থেকে চিনি, ছোলা, সয়াবিন, পেঁয়াজ উধাও হয়ে যায়

ভোক্তাদের সঙ্গে আর একটি অধিকার লংঘন হচ্ছে, তা হলভোক্তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্বের অধিকার হরণ। বাংলাদেশে ব্যবসাবাণিজ্য সংক্রান্ত যে কোনো নীতিনির্ধারণীমূলক ক্ষেত্রে ভোক্তাদের অসম অংশগ্রহণ সবক্ষেত্রে যাদের জন্য নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে, তাদের অংশগ্রহণ থাকে নামমাত্র। যেমন আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন কমিটিতে বাস ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব নেই। এখানে বাস মালিক শ্রমিক ছাড়া কিছু সরকারি কর্মকর্তা প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। সে কারণে যাত্রীদের প্রকৃত সমস্যা উদঘাটনের পরিবর্তে এখানে বাস মালিকদের স্বার্থই রক্ষা করা হয়। ঠিক একইভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ, মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক যে কোনো সভায় শুধু ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সরকারি কর্মকর্তারাই অংশ নিয়ে থাকেন। এখানে ভোক্তাদের অংশগ্রহণ নেই। এসব নীতিনির্ধারণী সভায় শুধু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব থাকার কারণে সাধারণ ভোক্তা বা জনগণ তাদের সমস্যা ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরতে পারেন না

এখন প্রয়োজন সরকারের একচেটিয়া ব্যবসায়ী তোষণনীতি পরিহার করে ভোক্তাদের সত্যিকার অর্থে ক্ষমতায়ন। ক্রেতাভোক্তা হিসেবে নিজেদের ইচ্ছামতো, আসলনকল পরখ করে পণ্য ক্রয়ের স্বাধীনতা সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ভোক্তা হিসেবে তাদের সচেতনতা পণ্যের মান সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা গেলে ভোগান্তির মাত্রা অনেকাংশেই লাঘব হবে। কাজেই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ব্যবসায়ী ভোক্তাদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে ভোক্তা সংগঠনগুলোর প্রতি সরকারিবেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ান জরুরি

সরকার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতো ভোক্তা সংগঠন, বিশেষ করে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় শাখাগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে পারে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব সমন্বয় রক্ষায় সক্ষমতা বাড়ানো, ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা শিক্ষা প্রদান করে ব্যবসায়ী ভোক্তাদের ভেতরকার ব্যবধান হ্রাস করতে পারে।এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, সেবা সার্ভিসসহ ব্যবসাবাণিজ্য ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ বিষয়ে সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংগঠনের সম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে। তাহলেই ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া আধিপত্য প্রভাব খর্ব হবে। তখন জনগণ আর মূল্যসন্ত্রাসীদের দ্বারা সর্বস্বান্ত হবে না। মনে রাখতে হবে, জনগণ তথা সাধারণ ভোক্তারাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি


Search News




©2020 Daily matrichaya. All rights reserved.
Design BY PopularHostBD